বড়বাবুদের ম্যানেজ করে, শিরোমনি বিসিক শিল্পনগরীতে অবৈধ সিসা কারখানা গড়ে উঠেছে

587

এম হুসাইন সাব্বির, খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি :

কোন নিয়মনীতি না মেনেই খুলনার খানজাহান আলী থানার শিল্পনগরী শিরোমণি বিসিক এলাকায় সিসা কারখানা গড়ে উঠেছে। এই কারখানা থেকে নির্গত ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ শুধু পরিবেশ নয় জন স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হতে পারে। রাতের আঁধারে পুরানো ব্যাটারি থেকে সিসা নিষ্কাশনের কাজ করা হয়। কারখানায় প্রাচীরবেষ্টিত একটি উচু টিনের ঘর। ঘরের মধ্যেগর্ত করে মাটির চুলার মত চুল্লি বানানো হয়েছে। সিসা তৈরীর সংঙ্গেযুক্ত ব্যক্তিরা জানান, পরিত্যাক্ত ব্যাটারির কোষগুলো সিমেন্টের মতো জমাট বেঁধে যায়। চুল্লির মধ্যে কাঠ ও কয়লা দিয়ে পুড়য়ে অ্যাসিড মিশ্রিত জমাট বাঁধা বর্জ্য সাজানো হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দিয়ে একটি পাম্পের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক পাখা দিয়ে প্রচণ্ড বেগে বাতাস দেয়া হয়। কাঠ ও কয়লা পুড়ে একটি আগুনের কুন্ডুলি সৃষ্টি হয়। সিসা পুড়ে তরল হয়। এরপর একটি লম্বা চামচ দিয়ে বর্জ্য সরিয়ে সিসা লোহার তৈরী কড়াইতে রাখা হয়। জানা যায় যে,বাস ও ট্রাকের একটি পরিত্যক্ত ব্যাটারী থেকে গড়ে ২২-২৩ কেজি এবং ইজিবাইকের পরিত্যক্ত ব্যাটারী থেকে ৬-২৩ কেজি পর্যন্ত সিসা পাওয়া যায়। । সিসা ফ্যাক্টরিগুলো সারা দিন বন্ধ থাকে। দিনেরবেলায় ভ্যানগাড়িতে করে পরিত্যক্ত ব্যাটারী মালামাল এনে রাতে কাজ শুরু হয়। আবার ভোর হওয়ার আগেই কাজ শেষ হয়েই যায় এবং দিনের বেলাতেই সিসা ডেলিভারি দিয়ে দেয়।সিসা ফ্যাক্টরির কারণে গাছপালার পাতা ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় লোকজন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের পদার্থ মানুষের শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আর কোন পশু কারখানার আশপাশের ঘাস খেলে অসুস্থ কিংবা মারাও যেতে পারে বলে আশংকা রয়েছে।

উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের  কোন ছাড়পত্র ছাড়াই এ সিসা কারখানা দির্ঘ দিন যাবৎ বহুল তবিয়তে একটি মহল পরিচালিত করে আসছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশ কয়েকবার  লেখালেখি হলেও কর্তৃপক্ষ এ সিসা কারখানা বন্ধে  কোন দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই বিসিকের মধ্যেই সিসা কারখানার গড়ে উঠেছে।

বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা জানান, আমরা সিসা ফ্যাক্টরীকে কয়েকবার নোটিশ দিয়েছি, তারা প্রভাব বিস্তার করে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

(বিস্তারিত প্রতিবেদন  দেখতে আগামী ১0 জানুয়ারী চোখ রাখুন সিআইএনটিভি২৪-এ )