জোড়া খুন মামলায় সাবেক এমপি পুত্র রনির যাবজ্জীবন

493

ঢাকার ইস্কাটনে জোড়া খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বেগম পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাভোগের আদেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল ইমাম এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি বখতিয়ার আলম রনি  আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়- আসামি বখতিয়ার আলম রনি ঘটনার সময় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তিনি ওই সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন। লাইসেন্সবিহীন পিস্তল দিয়ে ভিক্টিমদের গুলি করেন। তিনি জানতেন গুলি করলে তারা মারা যাবেন।

তার শিশুসন্তান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিল, সেটাও ঠিক। ঘটনার সময় তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে তার সঙ্গী ও মামলার সাক্ষীর জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ৩০২ ধারায় অপরাধ প্রমাণ হলেও তার (রনি) শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হলো। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হলো।

গত ১৫ই জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ঈমাম রায় ঘোষণার জন্য ৩০শে জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে মামলার রায় ঘোষণার জন্য তৃতীয়বারের মতো দিন ধার্য করা হয়। গত ৪ঠা অক্টোবর মামলাটি রায়ের জন্য থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তাকে পুনরায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রয়োজন মনে করেন আদালত। ওইদিন রায় না দিয়ে ১৭ই অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য-জেরার জন্য দিন ধার্য করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মঞ্জুরুল ঈমাম। এ ছাড়া গত বছরের ৮ই মে এ মামলায় রায়ের জন্য দিন ধার্য থাকলেও আদালত মনে করছেন মামলাটির বিষয়ে অধিকতর যুক্তিতর্কের প্রয়োজন আছে। ফলে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলার বিষয়ে অধিকতর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন। এরপর মামলাটি ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি হয়। এ আদালত যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ৩০শে জানুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ধার্য করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৩ই এপ্রিল গভীর রাতে নিউ ইস্কাটনে মদ্যপ অবস্থায় রনি নিজ গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এতে রিকশাচালক হাকিম ও অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ই এপ্রিল হাকিম এবং ২৩শে এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান। পরবর্তীতে হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম রমনা থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ২৪শে মে মামলার দায়িত্ব পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ৩১শে মে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে রনিকে গ্রেপ্তার করে। ২০১৫ সালের ২১শে জুলাই রনিকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিবি এসআই দীপক কুমার দাস। ২০১৬ সালের ৬ই মার্চ রনির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সামছুন নাহার। মামলায় ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন সাক্ষ্য দেন।