খুমেক ছাত্র সাকিবের সন্ধান ১১ দিনেও মেলেনি

561

খুলনা অফিস :
খুলনা মেডিকেল কলেজের (‘কে-২৪’ ব্যাচ, ৫ম বর্ষ) ছাত্র আল মাহমুদ সাকিবের সন্ধান ১১ দিনেও পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, তাকে উদ্ধারের জন্য সব ধরণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে, নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে পুলিশ তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি মহানগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় সাকিবের চাচা মোঃ ইসমাইল হোসেন ও ১০ ফেব্রুয়ারি খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ আব্দুল আহাদ পৃথক দু’টি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে নিখোঁজ রয়েছেন সাকিব।
সাকিবের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদরের উত্তর কাঞ্চননগর এলাকায়। তার পরিবারের বসবাস চট্টগ্রামের নন্দনকাননের টিঅ্যান্ডটি কলোনি। নিখোঁজ আল মাহমুদ সাকিবের বাবা মোঃ আজম হোসেন পাটোয়ারী একজন প্রকৌশলী। সে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ থেকে ২০১২ সালে এসএসসি এবং ২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করে খুমেকে ভর্তি হয়।
সূত্র জানায়, ৭ ফেব্রুয়ারি খুমেক’র বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ছাত্রাবাস থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বের হন সাকিব। তার সঙ্গে ছিলো কালো রংয়ের একটি লিভো মোটরসাইকেল। এরই মধ্যে নগরীর ফেরিঘাট মোড় থেকে পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে। তবে, সাকিবের কোন সন্ধান মেলেনি।
এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা-মা হতাশায় ভেঙে পড়েছেন। তার স্বজনরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। কিন্তু সাকিবকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সাকিবের বাবা মো. আজম হোসেন পাটোয়ারী বলেন, কী কারণে ছেলে নিখোঁজ তার কোনো দৃশ্যমান কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সাকিব কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধও নেই। তিনি বলেন, বিষয়টি জিডির তদন্ত কর্মকর্তাকে আমি জানিয়েছি, জিন্নাহ মসজিদের সামনে থেকে সাকিবের মোটরসাইকেল থামিয়ে একলোক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে গেছে। ওই স্থানের একটি দোকানের ভিডিও ফুটেজে তা পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন ভিডিও ফুটেজ সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছেন।
সহপাঠীরা বলছেন, ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে খুমেকের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ছাত্রাবাস থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বের হয় সাকিব। তার সঙ্গে ছিলো কালো রংয়ের একটি লিভো মোটরসাইকেল। এরইমধ্যে পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে। কিন্তু সাকিবের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
দায়েরকৃত ওই জিডিতে উলে¬খ করা হয়, বৃহস্পতিবার বিকেল চারটার দিকে সাকিব খুমেকের ছাত্রাবাস থেকে বের হন। রাত ৮টার দিকে জনৈক জসিম নামে জনৈক যুবকের মাধ্যমে সাকিবের রুমমেট নাসিম রেজা সোহানের কাছ থেকে বাড়িতে পাঠানোর নাম করে তার ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, একটি ট্যাব ও তিনটি মোবাইল ফোন নেওয়া হয়। এছাড়া সাকিব বের হওয়ার সময় তার ব্যবহৃত হোন্ডা লিভো মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারগ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমতাজুল হক বলেন, সাকিবকে উদ্ধারের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাকিবের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো তার কোনো হদিস আমরা পাইনি। সাকিব নিখোঁজ, আত্মগোপন নাকি গুম হয়েছেন- এমন গ্রশ্নেরও কোন জবাব মিলছে না।