খুলনায় বৃদ্ধা হত্যায় ৩ আসামির যাবজ্জীবন

606

স্টাফ রিপোর্টার
যশোর জেলা সদরের ইছাপুর গ্রামের নববধূ লাবনী বেগমকে ধর্ষণে বাঁধা দেয়ায় শাশুড়ি রহিমা বেগম লিপি (৫০) কে হত্যার দায়ে ৩ আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড-, ১০হাজার টাকা করে অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো ২বছর করে কারাদন্ডদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ রব হাওলাদার এ রায় ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, একই আদালত ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় ওই তিনজন আসামির প্রত্যেককে ১০বছর করে সশ্রম কারাদ-, ৫হাজার টাকা করে অর্থদ- অনাদায়ে আরও ৬মাসের সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন। মামলায় অভিযুক্ত এক আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
দন্ড-প্রাপ্তরা হচ্ছে- যশোর জেলা সদরের ইছাপুর গ্রামের মনছের আলির ছেলে মো. সাইদুল ইসলাম (২৬), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. জাহিদ (২৬) ও শহীদ মোল্লার ছেলে মো. কুদ্দুস (২৬)। খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন, মহাদেবপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৭)। রায় ঘোষণাকালে দন্ডপ্রাপ্ত ৩জন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের সূত্র জানান, ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে যশোর জেলা সদরের ইছাপুর গ্রামের দিন মজুর মো. লিটনের নববধূ লাবনীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে আসামিরা। এসময় লিটনের মা লিপি বেগম তাদের বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে লিপি বেগমকে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. লিটন বাদী হয়ে ২৪ ও ফেব্রুয়ারী সাইদুল ও জাহিদের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ২জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ২৭মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর কতোয়ালী থানার এসআই মো.মাসুম বিল্লাহ আদালতে সাইদুল, জাহিদ ও কুদ্দুসকে অভিযুক্ত এবং সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে ৩জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে বাদী ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজী দেয়। আদালত নারাজী গ্রহণ করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডিতে প্রেরণ করেন। পরে সিআইডি পরিদর্শক মো. হারুন-অর-রশিদ আবারও সাইদুল, জাহিদ ও কুদ্দুসকে অভিযুক্ত এবং সাইফুল ইসলামকে বাদ দিয়ে ৩জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত মামলার চার্জগঠণের সময় সাইফুল ইসলামকে সংযুক্ত করে চার্জগঠণ করে। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি এ্যাড. এনামুল হক ও অতিরিক্ত পিপি এ্যাড. শাকেরিন সুলতানা।