নদী ভাঙনে রাস্তা বিলীন , দুর্ভোগে চর পত্তনী ভাঙ্গা গ্রামবাসী

235

বরিশাল থেকে জুয়েল ডি সানি / আরিফুর রহমান

দীর্ঘ ৮ বছর ধরে চরম দুর্ভোগে দিন পার করছে চর পত্তনী ভাঙ্গা গ্রামের প্রায় হাজারখানেক পরিবার। একসময়ের খরস্রোতা নদী নয়াভাঙ্গনীর তীরে অবস্থিত এই গ্রামের সাথে উপজেলার এবং ইউনিয়নের সাথে সংযোগকারী একমাত্র রাস্তাটি নদীর ভাঙ্গনে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তারপর থেকে বিভিন্ন সময় এই রাস্তা নির্মাণের দাবী জানালে তা শুধুমাত্র আশ্বাসেই রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে এখন পর্যন্ত কোথায় একটু মাটি ফেলা হয় নি যার দরুন মানবেতর জীবন যাপন করছে এই গ্রামের হাজারখানেক পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একটি মটরসাইকেল যাবার মতও রাস্তা অবশিষ্ট নেই। তাছাড়াও এই গ্রামে কোন মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় ছেলেমেয়েরা লেখাপড়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে। তার কারন এই এলাকা থেকে নিকটবর্তী বিদ্যালয় প্রায় ৭-৮ কি মি দূরে এবং পায়ে হেটে যেতে হয়। রাস্তা না থাকার দরুন কোন যানবাহন সেখানে চলাফেরা করে না। পায়ে হেঁটে চলাই একমাত্র উপায়। স্থানীয় ইউ পি সদস্য মোঃ মনির হোসেন মোল্লার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি cintv24 কে বলেন, আমরা অনেক কষ্টে আছি। বরিশালের হিজলা উপজেলার ৩ নং গুয়াবাড়ীয়া ইউনিয়নের নয়াভাঙ্গনী নদীর তীরে আমাদের এই গ্রাম অবস্থিত। বিভিন্ন সময় আমরা অনেকের কাছে এ বিষয়ে বললেও কেউ কর্ণপাত করে নি। এই এলাকার মাননীয় সংসদ পংকজ দেবনাথকে এ বিষয়ে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। কিন্তু এখনও আমরা কোন সুফল পাইনি। তাছাড়া উপজেলার শেষ প্রান্তে এই গ্রামের অবস্থানের কারনে আমরা সবসময়ই অবহেলিত। হটাত কোন জরুরী চিকিৎসার জন্য নেই কোন কমিউনিটি ক্লিনিক যেখানে গ্রামবাসী প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারে। প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি রয়েছে তাও জরাজীর্ণ। আমাদের এই গ্রামে নেই কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয় যার ফলে ছেলে মেয়েরা ৭-৮ কি মি দূরে গিয়ে পড়ালেখা করতে চায় না। তাই এই এলাকার সমস্যা সমাধানে  সরকার এবং মাননীয় সংসদ সহ সংশ্লিষ্ট মহলের সুদৃষ্টি কামনা করছি। সরেজমিনে গ্রামবাসী  cintv24 কে বলেন, মোরা চরের মানু, এই লাইগা মোগো খোঁজ খবর কেউ রাখে না। সরকার এতো উন্নয়ন করে কিন্তু মোগো এই মাটির রাস্তাখানি করতে পারে না। মোরা মরলেই কি বাঁচলেই কি? গ্রামের একজন দিনমজুর (নাম না প্রকাশ করা শর্তে)  cintv24কে বলে, আগে মোরা রিকসা ভ্যান চালাইতাম ভালো ছিলাম। রাস্তা ভাঙ্গার পর মেলা অসুবিধায় পরছি। এখন মানসের বাড়ির কামের লাইগা বইয়া থাহন লাগে। আগে তা ছিল না। মনে করছিলাম সরকার এইডা কইরা দিবো। চেয়ারম্যান মেম্বররাও খালি কয় অইব কিন্তু এই ৮ বছরেও এক কোদাল মাটি পড়লো না। এই রাস্তা ভাঙ্গায় মোরা খুব কষ্টে
আছি।