সাতক্ষীরা বাঁশদহা ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক চাঁদা দাবির অভিযোগ

199

জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা :

সাতক্ষীরা সদরের ১ নং বাঁশদহা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস,এম মোশাররফের বিরুদ্ধে ৮ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায় বাঁশদহা ইউনিয়নের তলুইগাছা গ্রামের রহিম মেম্বরের পুত্র খোরশেদ আলম (লাভলু) গরুর খাটাল এর জন্য গবাদী পশুর ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানের কাছে গেলে চেয়ারম্যান লোক মারফত ৮ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ বিষয়ে তলুইগাছার লাভলুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি গবাদী পশুর ট্রেড লাইসেন নেওয়ার জন্য বাঁশদহা ইউপির চেয়ারম্যানের কাছে গেলে তিনি বলেন লাইসেন্স নেওয়ার জন্য কামার বায়সা মেম্বর আরিজুলের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। আমি আরিজুল মেম্বরের কাছে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন চেয়ারম্যান সাহেব বলেছে ট্রেড লাইসেন এর জন্য ১০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করিলে আরিজুল মেম্বর সর্ব শেষ ৮ লক্ষ টাকা ছাড়া ট্রেড লাইসেন হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। আরিজুল মেম্বর আরও বলেন চেয়ারম্যান মোশাররফ বলেছে ৮ লক্ষ টাকা দিলে ট্রেড লাইসেন হবে। ভুক্তভোগী লাভলু আরো জানায় আমার কাছে মোবাইল কল রেকর্ড আছে যাতে আরিজুল মেম্বর গবাদী পশুর ট্রেড লাইসেন এর জন্য ৮ লক্ষ টাকা চেয়ারম্যানের দোহায় দিয়ে দাবি করেছে। এ বিষয়ে কামারবায়সার মেম্বর আরিজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন লাভলু মিথ্যা কথা বলেছে। তার সাথে আমার কোন টাকার বিষয়ের কথা হয়নি।

৮ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ে বাঁশদহা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোশাররফ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন লাভলুর সাথে আমার ট্রেড লাইসেন নেওয়ার কথা হয়েছে। কিন্ত কোন টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা হয়নি। এ বিষয়ে আরো জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য/সদস্যারা বলেন চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ বেঁচে খেয়ে ফেলছে। বয়ষ্ক ভাতা,বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড প্রতি ৫/৬ হাজার করে টাকা নিচ্ছে। এছাড়া ২৪ মাসের যে চাউল দিচ্ছে তার দাম চেয়ারম্যানের কাছে ৭/৮ হাজার টাকা করে। এই সমস্ত টাকা চেয়ারম্যান পছন্দের লোক ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে নিচ্ছে। এমনকি আমাদের মেম্বরদের বেতনের টাকা পর্যন্ত দেয় না। মেম্বরদের কোর প্রকার কাজ দেইনা। শুধু মাত্র নামে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে কোন কাজ না করে সমস্ত প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে নিজের পকেট ভর্তি করছে।

মেম্বররা আরো বলেন গত তিন বছরে বাঁশদহার চেয়ারম্যান ২২ বিঘা জমি,একটি লেদের দোকার,৩/৪ টা ট্রলি এবং একাধিক ব্যাংকে লক্ষ-লক্ষ টাকা নিজের নামে বা তার স্ত্রী ও আত্বীয় স্বজনের নামে আছে। ট্রেড লাইসেন নিতে যাওয়া ভুক্তভোগি লাভলু সাতক্ষীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ,জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা,এবং বিভাগিয় কমিশনার খুলনা বরাবর তিনটি অভিযোগ দাখিল করেছেন ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য। এ বিষয়ে বাঁশদহা ইউনিয়নের সাধারণ জনগনের তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এর বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তি পায় , সে জন্য প্রশাসনের কাছে দৃষ্টি আকার্ষন করেছেন। (আগামী প্রতিবেদনে চোখ রাখুন)