খুলনায় ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ হারে  

225
মো. আল আমিন খান, খুলনা ব্যুরো   
ফার্মাসিস্ট কোর্স জটিলতায় খুলনায় ড্রাগ লাইসেন্স বিহীন ফার্মেসীর সংখ্যা বাড়ছে। নতুন ড্রাগ লাইসেন্স করতে কিংবা পুরাতন ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে ফার্মাসিস্ট কোর্স বাধ্যতামূলক করায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। এদিকে ফার্মাসিস্ট কোর্স বন্ধ থাকায় এ সমস্যা আরও বাড়ছে। আর এ সুযোগে লাইসেন্স বিহীন ওষুধের দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত দিনে ওষুধ ব্যবসায় শুধু ড্রাগ লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স প্রয়োজন ছিলো।
তবে সরকারের নতুন নীতিমালায় নতুন ড্রাগ লাইসেন্স করা অথবা পুরাতন লাইসেন্স নবায়ন করতে ফার্মাসিস্ট কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে জটিলতায় পড়েছে খুলনা অঞ্চলের ওষুধ ব্যবসায়ীরা। লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা আবেদন করতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ড্রাগ লাইসেন্সধারী দোকানের সংখ্যা ৩ হাজার ৬শ’।
এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৬শ’ ফার্মেসীর লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। অথচ ফার্মাসিস্ট সার্টিফিকেটের অভাবে তারা নবায়ন করতে পারছে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায় খুলনায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ওষুধের দোকান বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এসব ওষুধের দোকানী সহজেই লাইসেন্স করতে পারছে না। জেলা ওষুধ তত্ত্বাবধায়কের দপ্তরের সূত্রমতে খুলনায় লাইসেন্স বিহীন ওষুধের দোকানের সংখ্যা প্রায় ৪শ’।
তবে কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির হিসেবে এ সংখ্যা আরও বেশি। ফার্মেসী কাউন্সিল-এর ওয়েব সাইট থেকে পাওয়া তথ্যমতে গত এক বছর ধরে ফার্মাসিস্ট কোর্স বন্ধ রয়েছে। খুলনায় ২শ’ জনের একটি কোর্সের শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে পরীক্ষার অপেক্ষায় রয়েছে। এ ব্যাপারে নগরীর হেরাজ মার্কেট ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে তারা জানায়, আমরা ড্রাগলাইসেন্স করতে আগ্রহী। কিন্তু ফার্মাসিস্ট ছাড়া ওষুধ প্রশাসন থেকে কোনো নতুন লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না। এমন কি নবায়ন করতেও ফার্মাসিস্ট কোর্স ছাড়া সম্ভব নয়। পাশাপাশি ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কর্তৃপক্ষ ট্রেডলাইসেন্সের কপি চায়। সেক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে গেলে আরও হয়রানি হতে হয় । সব মিলে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্যামিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট এসোসিয়েশন খুলনার সভাপতি মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিল নতুন নিয়ম করেছে। এতে যাদের ড্রাগ লাইসেন্স আছে কিন্তু ফার্মাসিস্ট কোর্স করা নেই তাদের ফার্মাসিস্ট কোর্স করতে হবে। অন্যথায় নতুন ড্রাগ লাইসেন্স করতে পারবে না, পুরাতন লাইসেন্সও নবায়ন হবে না।তিনি বলেন, ফার্মাসিস্ট কোর্স বন্ধ থাকায় লাইসেন্সগুলো নবায়ন হচ্ছে না। এতে করে প্রতিদিনই নতুন নতুন ফার্মেসীর লাইসেন্স-এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। এছাড়া নতুন নতুন ফার্মেসী ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা করায় একদিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না অন্যদিকে তারা নকল, ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ এবং নিম্নমানের ওষুধ বিক্রি করছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।