ঠাকুরগাঁও বখাটের ছুরিকাঘাতে নার্স তানজিনার মৃত্যু

291

হাসপাতালে যাওয়া-আসার সময় দীর্ঘদিন ধরে নার্স তানজিনা আক্তারকে (২২) উত্ত্যক্ত করতেন বখাটেরা। এই উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তারা। তারই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকালে হাসপাতালে যাওয়ার পথে বখাটেরা ওই নার্সকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।

৭ দিন হাসপাতালের বিছানায় জখমের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত তানজিনা আক্তার ঠাকুরগাঁও শহরের গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি সালন্দর ইউনিয়নের মাদ্রাসাপাড়া গ্রামের হামিদ আলীর মেয়ে।

গত ২০ জুন (বৃহস্পতিবার) ঠাকুরগাঁও শহরের মাদরাসাপাড়া এলাকায় জীবন নামে এক বখাটের ধারালো ছুরির আঘাতে গুরুতর আহত হন তানজিনা আক্তার। ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে রাস্তায় ওৎ পেতে থাকা বখাটে জীবন গতিরোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। তানজিনার চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এলে জীবন পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী জীবনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।তানজিনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তানজিনার বাবা-মা কন্যা হারানোর ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েছেন। তার মা ইতোমধ্যে শয্যাসায়ী হয়ে পড়েছেন।

তানজিনার মা সাহেদা বেগম- ছবি: জাগরণ

তানজিনার বাবা হামিদ আলী অভিযোগ করে বলেন, বখাটে জীবন স্কুলে যাতায়াতের পথে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতো। আমার মেয়ে অন্যায় সহ্য করতে না পেরে উত্ত্যক্তকারী জীবনকে শাসন করে। তারই জেরে জীবন আমার মেয়েকে ছুরিকাঘাত করে।

তানজিনার মা সাহেদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে ছিল শান্ত স্বভাবের। সে কাউকে বিরক্ত করতো না। আমার মেয়েকে যে চাকু মেরে হত্যা করেছে আমি তার ফাঁসি চাই।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (২০ জুন) তানজিনার বাবা আবদুল হামিদ বাদী হয়ে আরমান হোসেন জীবন (১৯) সহ অজ্ঞাত আরও ৫ জনকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

মামলার বরাতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোতাউজ্জামান বলেন, প্রতিদিন তানজিনা আক্তার বাড়ির পাশের চক্ষু হাসপাতালে যাতায়াত করার সময় প্রতিবেশী বখাটে আরমান হোসেন জীবনসহ তার কয়েকজন বন্ধু ওই উত্ত্যক্ত করত। আর এই উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করে তানজিনা আক্তার। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বখাটেরা।

মোতাউজ্জামান আরও বলেন, প্রথমে মামলাটি হত্যাচেষ্টার ধারায় রুজু করা হয়েছিল। এখন যেহেতু তানজিনা মারা গেছেন সেক্ষেত্রে এ মামলায় এখন হত্যার ধারা সংযুক্ত হবে।

মামলার তদন্ত চলছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এসআই মোতাউজ্জামান। সৌজন্যে : দৈনিক জাগরণ