সেমিফাইনাল সমীকরন , বাংলাদেশ কি যেতে পারবে ?

174

সমীকরণের মারপ্যাঁচে ঢোকার আগে চার দলের বর্তমান পয়েন্টের কথাটা জানিয়ে রাখা যাক। বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান ৭ টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে, শ্রীলঙ্কাও আজ খেলতে নেমেছে নিজেদের ৭ম ম্যাচ। ৮ পয়েন্ট নিয়ে চার দলের মধ্যে আপাতত এগিয়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। সমান ৭ পয়েন্ট বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দলেরই, তবে রান রেটে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। আর আজকের ম্যাচের আগে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ৬।

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে র‍্যাঙ্কিং সেরা ছিল বলেই নয়, গত তিন বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটকে নতুনভাবে চিনেছে ইংল্যান্ড। দুর্দান্ত ব্যাটিং আর পেস আক্রমণে বিশ্বকাপের ফেবারিট ধরা হচ্ছিল তাদের। এখন উল্টো ১৯৯৯ সালের ভাগ্য বরণ করার দশা তাদের। আবারও ঘরের মাঠে দর্শক বনতে বসেছে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ডের অবশ্য একটি সুবিধা আছে। নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই আছে। শেষ দুই ম্যাচে জিতলেই সরাসরি সেমিফাইনাল খেলবে তারা। কিন্তু তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ ভারত, যাদের এ বিশ্বকাপে কেউ হারাতে পারেনি। মাইকেল ভন তো বলেই বসেছেন, ভারতকে যে দল হারাবে তারাই জিতবে বিশ্বকাপ। রবিবারের ম্যাচে ছন্নছাড়া ইংল্যান্ড সে কাজ করতে পারবে, সে আশা কোনো ইংলিশ বিশেষজ্ঞও করছেন না। বাকি রইল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তানের কাছে হেরে একটু ধাক্কা খেয়েছে বটে, কিন্তু ইংল্যান্ড ম্যাচে ইতিহাস নিউজিল্যান্ডের পক্ষেই থাকবে। ১৯৮৩ সালের পর যে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনোই হারেনি কিউইরা!

এবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আশা যাক। বাংলাদেশের সেমিফাইনাল স্বপ্ন এত বেশি যদি-কিন্তুর ওপর নির্ভর করছে যে কাগজ কলম নিয়ে হিসেব কষতে হয়। বাংলাদেশকে প্রথমেই আশা করতে হবে যেন ইংল্যান্ড তাদের বাকি দুই ম্যাচে একটির বেশি জয় না পায়। সে ক্ষেত্রে ভারত ও পাকিস্তানকে হারালে সেমিফাইনালের পথে ইংল্যান্ডকে পেছনে ফেলবে বাংলাদেশ। আর যদি ইংল্যান্ড দুই ম্যাচেই হেরে যায়, সে ক্ষেত্রে শুধু একটি জয়ই যথেষ্ট হবে মাশরাফিদের জন্য। বিশেষ করে সে জয়টা যদি আসে পাকিস্তানের বিপক্ষে, তাহলে সরফরাজদের নিয়েও আর চিন্তা করতে হবে না বাংলাদেশকে।

কিন্তু এখানেই শেষ হচ্ছে না বাংলাদেশের চিন্তা। সেমিফাইনাল যাত্রায় শ্রীলঙ্কাও যে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ! তাই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার অমঙ্গলও কামনা করতে হচ্ছে। আজ দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ বাকি থাকবে শ্রীলঙ্কার। বাংলাদেশ যদি নিজেদের দুটি ম্যাচই জেতে, তবে শ্রীলঙ্কা যেন অন্তত এক ম্যাচ হারে সে আশা করতে হবে। আর যদি বাংলাদেশ একটি ম্যাচে জিতে, তাহলে শ্রীলঙ্কাকে হারতে হবে অন্তত দুটি ম্যাচে। অর্থাৎ পাকিস্তানকে হারানোর সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের হার কামনা করাও এখন বাংলাদেশের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের সমীকরণটা তুলনামূলক সহজ। আগে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের ম্যাচে জয় পেতে হবে ৯২ এর চ্যাম্পিয়নদের। এরপর অবশ্য একটু কঠিন দ্বন্দ্বেই পড়তে হবে পাকিস্তানি সমর্থকদের। তিন ম্যাচের জন্য যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সমর্থক বনে যেতে হবে! তবে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে এতে খুব একটা আপত্তি থাকার কথা নয় তাদের। কোহলির দল ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে তিন ম্যাচেই হারালে শেষ চারে ওঠার কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায় সরফরাজদের জন্য। সে ক্ষেত্রে ইংল্যান্ড যদি নিউজিল্যান্ডকে হারায়ও, তাও ভাগ্য খুলে যাবে পাকিস্তানের।

এশিয়ার আরেক দল শ্রীলঙ্কার সমীকরণ এক অর্থে খুব সহজ, আবার খুব কঠিনও। নিজেদের তিন ম্যাচে জিতে গেলেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে নিয়ে আর মাথা ঘামাতে হবে না তাদের। কিন্তু ওদিকে ইংল্যান্ড যদি নিজেদের দুই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে লঙ্কানদের বদলে স্বাগতিকেরাই যাবে শেষ চারে। কারণ, শ্রীলঙ্কার দুটি পয়েন্ট বৃষ্টির সুবাদে এসেছে। বেশি ম্যাচ জয়ের ফলে ইংল্যান্ড যাবে সেমিতে। কিন্তু দুই দলেরই একটি ম্যাচ বাকি ভারতের বিপক্ষে। ওয়েস্ট ইন্ডিজও কবে কী করবে তার কোনো ঠিক নেই। আর দক্ষিণ আফ্রিকা যদি আজ হারিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কাকে, তাহলে তো সমীকরণটা আরও জটিল হয়ে উঠবে। (সৌজন্যে : প্রথম আলো অনলাইন)