গ্রেপ্তার রিশান ফরাজী, রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন মিন্নি

163

 জুয়েল ডি সানি, সিনিয়র স্টাফ্ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তিন নম্বর আসামি মো. রাশেদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । রিশান বরগুনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের ধানসিঁড়ি রোডের দুলাল ফরাজীর ছেলে এবং এ মামলার দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিশান ফরাজীকে গ্রেপ্তারের কথা জানান পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

তিনি জানান, বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেলের নেতৃত্বে একটি দল আজ বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে রিশান ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। রিশান ফরাজীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত থাকার কথা তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি স্বীকার করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন। মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. রাশিদুল হাসান রিশান ওরফে রিশান ফরাজীকে (২০) গ্রেপ্তারের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং মিন্নির কথা থেকে পাওয়া সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মিন্নিকে এ মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মিন্নি এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানতেন। শুরু থেকে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে যা যা প্রয়োজন, সব ধরনের মিটিং করেছেন হত্যাকারীদের সঙ্গে। মিন্নি নিজেও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে খুনিদের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথন হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দু-একটি গণমাধ্যম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ করছে, অভিযোগ করে এসপি মারুফ হোসেন বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এর আগে এই হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও নিহত রিফাত ফরাজীর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গত মঙ্গলবার ১৩ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।