খুলনা বিভাগে বেশিরভাগই  ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত 

204
মোঃ আল আমিন খান, খুলনা ব্যুরো   
খুলনা বিভাগে চলতি জুলাই মাসে ৭১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ অফিস থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, তাদের যথাযথ পরীক্ষা হয়নি। এ কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত কেউ মারা যাননি। বিভাগীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগের তথ্য সংরক্ষণের জন্য গত ৩ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে জানা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জন, খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, গাজী মেডিক্যাল হাসপাতালে তিন জন ভর্তি হয়েছেন। খুলনা বিভাগের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে খুলনা জেলা শীর্ষে রয়েছে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিরা খুলনার বাইরে অবস্থানকালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন বলে চিকিৎসকদের অভিমত। খুলনার সিটি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ৯ জনই ঢাকা থেকে আসার পর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন বলে স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
মেহেরপুরের মহেশপুর থানার বাসিন্দা এএসআই আছাদ (৩৩) গত ১৫ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন বলে বলা হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আছাদ আগে থেকে কার্ডিয়াক সমস্যায় ভুগছিলেন ছিলেন। এছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা থেকে নড়াইলের বাড়িতে আসার পথে ইকরাম হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গত ২৫ জুলাই হানিফ পরিবহনের বাসে মারা যান। নিহতের বাড়ি সদর উপজেলার বাগডাঙ্গা গ্রামে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ার কারণে পরীক্ষা হয়নি। ফলে এটাকে ডেঙ্গু মৃত্যু হিসেবে সরকারি তালিকায় নেওয়া হচ্ছে না। খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ‘৩ জুলাই বিভাগীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগের তথ্য সংরক্ষণের জন্য সেল খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭১ জন শনাক্ত হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম থাকতে হবে। এছাড়া যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। রোগীকে কোনও ধরনের এন্টিবায়েটিক দেওয়া যাবে না। ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থান খারাপ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু টেস্টের ব্যবস্থা নেই। শিগগিরই প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই টেস্ট চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. আতিয়ার রহমান শেখ জানান, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে খুলনা জেলায় ১১৬টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আউটডোর ও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আব্দুল্লাহ জানান, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি ওয়ার্ডে এক হাজার করে লিফলেট পৌঁছানো হয়েছে। ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি মশক নিধনের কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং করা হয়েছে।’