সাতক্ষীরায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, আটক ৩

238

বদরুজ্জামান খোকা, জেলা প্রতিনিধি, সাতক্ষীরাঃ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ১০ নম্বর আগরদাঁড়ি ইউনিয়নে এক নম্বর ওয়ার্ড আগরদাঁড়ি গ্রামের রাবেয়া খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূকে শুক্রবার রাত ১১.৪৫ দিকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনেরা। নিহত রাবেয়া খাতুন তলুইগাছা গ্রামের আব্দুল কাদেরের বড় কন্যা। আব্দুল কাদেরের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রায় এক বছর পূর্বে আমার কন্যাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেই। আমি গরিব মানুষ তাই বিয়েতে তেমন কিছু দিতে পারি নাই। তবে ছোটখাটো অনেক আবদার মিটাইছি জামাইয়ের। বিয়ের পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবি নিয়ে আমার কন্যাকে মারধর এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। এসব কথা আমার কন্যা আমাকে জানালে তাদের সুখের জন্য আমি একটা ব্যাটারি চালিত ভ্যান কিনে দেই। যাতে তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। পরবর্তীতে তাদের চাহিদা আরো বাড়তে থাকে এবং ইজিবাইক দিতে হবে বলে প্রস্তাব দেয় আমি কন্যা কে বলি দেখ মা হাতে তো এখন টাকা পয়সা নাই। এখন ব্যাটারি ভ্যান চালাতে থাকুক পরবর্তীতে ইজি বাইক কিনে দেব। নরপিশাচ শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিশেষ করে আমার জামাই ও বিয়াই মেনে নিতে পারে নাই। যৈতুক দিতে না পারায় আমার মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে তারা মেরে ফেলেছে। বালিশ দিয়ে মেরে ফেলে খ্যান্ত হয়নি। পরে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। তারা নাটক সাজিয়েছে। নিহত রাবেয়া খাতুন খুব ঠান্ডা প্রকৃতির মেয়ে ছিল। তার পক্ষে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করা অসম্ভব। এ ব্যাপারে একাধিক এলাকাবাসী মনে করে যে, স্বামী, শশুর, শাশুড়ি থেকে মেরে ফেলেছে বলে ধারণা করছে। রাতে পুলিশ এসে ঘাতক স্বামী সহ তার মা এবং তার ফুফাতো ভাইকে আটক করে থানায় প্রেরণ করে। সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। যৌতুকের জন্য আর কত নিষপাপ মেয়ে এভাবে প্রাণ দেবে। এলাকাবাসী এটা সুশীল সমাজের কাছে জানতে চাই মেয়ের পরিবার সহ এলাকাবাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।